আমি চিনিগো চিনি তোমারে

Published : নভেম্বর ২১, ২০১৬ | 1080 Views

আমি চিনিগো চিনি তোমারে

মধু হই হই আঁরে বিষ খাওয়াইলা, কোন কারনে ভালোবাসার দাম ন দিলা। চট্টগ্রামের ভাষা সবাই না বুঝলেও গান ঠিকই বোঝেন তাই না। নইলে এই পুরনো গানটি হালে এত জনপ্রিয় হবে কেন? যাই হোক মধু দিয়ে শুরু করলেও আজকের লেখা মুলত চিনি নিয়ে। মানে ‘‘মধু কই কই আপনাদেরকে চিনি গেলানোর ধান্ধা। তবুও ভালো বিষতো নয়।

চিনি নিয়ে নাকি রবীন্দ্রনাথ একটি গান লিখেছিলেন, ‘‘আমি চিনিগো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী। তুমি থাকো সিন্ধুপাড়ে’’ এই কথাটা আবার আমার নয়। এটা হুমায়ন আহমেদ এর চরিত্র হিমুর। চিনি নিয়ে কথা বলার জন্য কি চিনি চিনতে হয়। লোকেতো তাই বলে। চিনি চেনা খুব কঠিন নয়। কারণ চিনি মুখে দিলে বোঝা যায় কোনটাতে কত চিনি আছে। কিন্তু তবুও কেউ চিনি চেনানোর নামে ইউরিয়া সার খাওয়াতে চায়। বাজার থেকে অনেক প্যাক করা জিনি কিনে ধরা খাইছেন। দশ চামুচ দিলেও এক চামুচের মিষ্টি হয়না। অবশ্য যাদের ডায়বেটিস আছে তাদের জন্য ভালো। আর যারা আসল চিনি চেনেন ও চান তারা পঞ্চগড় চিনিকলের লালচিনি কেনন। আমি এতদিন চিনি চিনতাম। আজ চিনিকল চিনলাম। বলছিলাম ২০১৬ সালের ১৪ ফ্রেব্রুয়ারীর কথা এই দিন পাঁয়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ যাচ্ছিলাম পঞ্চগড় চিনিকলের সামনে দিয়ে।

পঞ্চগড় চিনিকলের সামনে এসে তুল্লাম আরেকটা সেলফি। ভবন পুরনো হালের হলেও পানির ফোরায়া কিন্তু তখনো সচল ছিলো। দেশের চিনির চাহিদার একটা অংশ এই চিনিকল থেকে সরবরাহ করা হয়। উত্তরাঞ্চলের অনেকাংশই। এই চিনিকলের চিনি আমরা বাজার থেকে কেনার সময় অনেকে বলি ‘‘দেশী চিনি’’ আবার অনেকে বলে ‘‘লাল চিনি’’ একটু লালচে হয় বলে। তবে তথাকথিত চটকদার বিজ্ঞাপনের সাদা চিনির মতো এই চিনিতে আদৌ চিনি আছে কিনা মানে মিস্টি আছে কিনা সেটা বোঝার জন্য ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হবে না। মুখে দেয়ার সাথে সাথে বোঝা যাবে আপনি চিনি না চিনতে পারেন কিন্তু চিনি আপনাকে চিনেছে। এই চিনিতে যেমন চিনি বা মিষ্টি থাকে। সব চিনিতেই যেন সেরকম চিনি থাকে। ভাবছেন চিনিতে আমার চিনি না থাকার কি আছে। চিনিতে চিনি থাকে না। এমন চিনিও বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু। মানে মিষ্টি কম থাকে আরকি।

এই মিলের দৈনিক আখ মাড়াই করার ক্ষমতা ১,৫০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদনের ক্ষমতা ১৫,০০০ মেট্রিক টন।১৯৬৫ সালে এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি নির্মান করা ১৯৬৯ ৭০ সালে। স্বাধীনতা লাভের পর, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার এই প্রতিষ্ঠানটিকে রাষ্ট্রায়াত্ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। গত কয়েক অর্থবছরে মোট উৎপাদিত চিনির মধ্যে হাজার হাজার মেট্রিকটন চিনি ড়–দামে পড়ে থাকে। বছরে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ আমরা চট্কদার বিজ্ঞাপন দেখে অচিনি কিনি চিনির নামে। আসলে আমরা চিনি চিনি না। আরেকটি কারণ হলো কমদামী ভারতীয় চিনিতে সয়লাভ দেশের বাজার।

পঞ্চগড় চিনি কলে প্রতি বছর যে পরিমাণ অবিক্রিত চিনি থাকে তার বাজার মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকারও বেশি। গত কয়েক অর্থ বছর থেকে টানা লোকসান গুণছে পঞ্চগড় জেলার সবচেয়ে পুরোনো ও সর্ববৃহৎ এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, যান্ত্রিক ত্রুটি, কর্তৃপক্ষের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত থাকাসহ নানা সমস্যার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ লোকসান গুণতে হচ্ছে এ চিনিকলে। ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৬১২ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়েছিল। সর্বশেষ ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে ১৪ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। তার পর থেকেই চলছে লোকসান। ২০১১-১২ অর্থ বছরে ২৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

লেখা ও ছবি: জাহাঙ্গীর আলম শোভন

Published : নভেম্বর ২১, ২০১৬ | 1080 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798