আজকের শিশু ও লোকজ খেলাধুলা

Published : নভেম্বর ১৪, ২০১৬ | 1498 Views

আজকের শিশু ও লোকজ খেলাধুলা
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা পাড়ি দেয়ার পর দেখলাম কয়েকটি শিশু যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলছে। তাদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম তারা কি খেলছে। তাদের কথা শুনে আমার চোখ কপালে। তারা জানালো সিনেমাতে যেমন দেখা যায় নায়ক ভিলেন মারামারি করছে। ঠিক তেমনি তারা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে। অবাক হবো কিনা বুঝতে পারছিনা। যেদেশের সিনেমাতে দেখানো হয় যে, নায়ক সন্ত্রাসী অথবা সন্ত্রাসীই নায়ক। সেদেশে শিশুরা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলবে কিনা সে প্রশ্ন কে কাকে করবে আর কেইবা জবাব দেবে? তাহলে একবার বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে কি হচ্ছে এসব। শুধু যে স্টার জলসা আর জি বাংলাতে নয় সমস্যা আরো অন্য জায়গাতেও আছে। এটা আমি তখনকার কথা বলছি। যখন আমি দেখবো বাংলাদেশ গড়বো বাংলাদেশ স্লোগান নিয়ে তেঁতুলিয়া থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফ যাচ্ছিলাম।

আমাদের লোকসংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। লোকজ খেলাধুলা। ১৫০টির বেশী লোকজ খেলা বিভিন্ন এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। এসব খেলা যেমনি চিত্তাকর্ষক তেমনি মজার। এমনকি এগুলো খেলার জন্য তেমন দামী বা ভারী কোনো বাহনের প্রয়োজন হয়না। কানামাছি, বউচি, দাড়িয়াবান্ধা, পুতুলচুরি, বুড়ির পুকুর, বিড়াল বিড়াল ইত্যাদি নানা খেলা রয়েছে। এগুলোকে এক এলাকায় এক নামে অভিহিত করা হয়। আমার অল্প একটু ক্ষমতা থাকলে আমি প্রতিবছর লোকজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতাম। আর বানাতাম একটি লোকজ ক্রীড়া ফেডারেশান। আর স্কুলে স্কুলে গিয়ে বাচ্ছাদের লোকজ ক্রীড়ার উপর প্রশিক্ষণ দিতাম। সত্যিকার অর্থে আমি এভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ২০০২ সালে একটি লোকজ ক্রীড়া প্রদর্শনী করেছিলাম পহেলা বৈশাখে ফেনীতে।

এই কাজটি করা দরকার। কেননা দুনিয়ার তাবৎ জাতি তাদের নিজেদের সংস্কৃতি দিয়ে পরিচিত হয়। আর আমরা পরিচিত হতে চাই বিদেশী সংস্কৃতি দিয়ে। আমি বিদেশী সংস্কৃতিকে খারাপ বলছিনা। কিন্তু বাইরের কেউ যখন আমার দেশ সম্পর্কে জানতে চায় তখন তারা আমার সংস্কৃতি আমার কালচার আমার ঐতিহ্যকে আমার মাঝে দেখতে চায়, বুঝতে চায়। অন্যকোনো কিছুকে নয়। কিন্তু আমরা নিজের সংস্কৃতিবাদ দিয়ে ধার করা সংস্কৃতি নিয়ে মেতে উঠি। এমনকি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও।

আমরা বিদেশী খেলা খেলতেই পারি। কিন্তু আমার নিজেরও সংস্কৃতিতে খেলাধুলা আছে সেগুলো বাদ দিয়ে কেন শুধু বিদেশীটা নিয়ে পড়ে থাকবো। আমাদের এই মানষিক দৈন্যতা যতদিন না ঘুচবে ততদিন আমরা নিজের শেকড়ের সন্ধান পাবো না।

Published : নভেম্বর ১৪, ২০১৬ | 1498 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798