ঘুরে আসুন হিমালয়ের দেশ নেপালে

Published : অক্টোবর ২৫, ২০১৬ | 1741 Views

ঘুরে আসুন হিমালয়ের দেশ নেপালে

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বাংলাদেশের কাছের দেশ নেপাল। তেঁতুলিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে নেপাল সীমান্ত। কিন্তু ভারতের মাল্টিপল ভিসা পাওয়ার সমস্যা আবার নেপালের সীমান্ত এলাকা হলো দূর্গম পাহাড়ী পথ। কাঠমান্ডু এখান থেকে অনেক দূর। তাই আমাদের জন্য বিমানেই ভরসা। এমনকি নেপালী শিক্ষার্থীরা যারা বাংলাদেশে পড়াশোনা করে তারাও বাধ্য হয়ে বিমানে যাতায়াত করেন। মাত্র এক ঘন্টার বিমানযাত্রার আরেকটা মজার ব্যাপার হলো নেপাল যতই কাছে আসবে ততই আপনার চোখে ভেসে উঠবে একস্তুপ হিরক রাজ্যের মতো এভারেস্ট। সূর্যের আলো কিংবা চাঁদের রুপালী আলোতে চক চক করে হিমালয় স্বাগত জানাবে আপনাকে। হিমালয়ের কাছাকাছি গেলে মনে হবে কাঁচের তৈরী কোনো ভিনগ্রহের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছেন আপনি। হিমালয় যেন দুহাতে হাতছানি দিয়ে ডেকে যায় সারাবেলা। হয়তো সেজন্যই নেপাল প্রতিবছর লাখ লাখ অভিযাত্রীকে ডেকে নেয় হিমালয়ের অপরুপ সৌন্দর্য দেখানোর জন্য।
প্রথমবার নেপাল সফর করি ৪ অক্টোবর ২০১৩। নেপালের ত্রিভূবণ আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে বাঘবাজার হোটেল তাজএ গিয়েছিলাম। এখানে আগেই হোটেল ঠিক করা ছিলো। বাংলাদেশের লোকজন এখানেই থাকে বেশী কারণ এখানে বিহারী মুসলিমদের হোটেলসহ বেশকয়টি রেস্টুরেন্টও রয়েছে। এখানে থাকলে খাবার নিয়ে টেনশান করতে হয়না। তবে সাধারণত নেপালীরা যেভাবে মসলা দিয়ে সব্জি রান্না করে সেটাও কম মজা নয়। আমাদের কিছু সোস্যাল প্রোগ্রাম শেষে আমরা ৭ তারিখ বের হলাম ঘুরতে। আগেই বলে রাখি নেপালে বেড়াতে গেলে অবশ্যই শীতের জামা নিতে হবে। শীতকালে হলে একটা মোটাজামা নেয়া ভালো। বর্ষায় কাঠমান্ডুতে কিন্তু গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়। আর শহরে ধুলাবালি প্রচন্ড। এমন ধুলো আমারতো নাক জ্বলতে শুরু করেছিলো তাই মাস্ক নিতে ভুলবেন না। ওখানে ৫ টাকার মাস্ক কিন্তু ৫০ টাকা। এমনকি আপনি বসুন্ধরা পকেট টিস্যুর দাম ২০ রুপী।
নেপাল ভ্রমনের আরেকটা সুবিধা হলো বিমানবন্দর থেকেই আপনি ভিসা নিতে পারবেন এবং দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কোনো ভিসা ফি নেই। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গেলে প্রবেশ ফিও কম। অবশ্য সার্কের বাইরের দেশগুলোর জন্য সে সুযোগ নেই। তাদেরকে পয়সা খসাতে হয়।

1383075_10201253811921158_1000134755_n
পোখারা ভ্রমণ করতে গেলে বিকালে যাওয়াই ভালো আর সকালে গেলে যেতে পারেন নাগরকোট। আকাশে মেঘ না থাকলে পোখারায় শরনকোট থেকে হিমালয়ের অন্নপূর্ণাকে দেখা যায় এক লাবন্যময় রুপে। ছোট শহর পোখারা। এখানে একটি অনিন্দ্য সুন্দর লেক রয়েছে। পোখারা মানে পুকুর। লেকের পাশেই ছোট ছিমছাম পোখারা শহর। শহরে ট্যুরিস্টদের জন্য সব সুবিধাই আছে। এখানে এলে দেখতে পাবেন কলকাতার বাঙালী টেক্সিড্রাইভারদের, পাবেন শার্ট প্যান্ট পরা স্মার্ট নেপালী মেয়ে আপনার কাছে আসবে একটি কলম বিক্রি করার জন্য। আমি তাদের সম্মানে ছোটছোট কিছু কিনেছি। তবে এখানে যাই কেনেন সেটা দরদাম করে নেবেন এমনকি ডলার ভাঙাতে হলেও। শরনকোটে পাহাড়ের উপর উঠলে পুরো শহরটাকে মনে হয় শিল্পীর আঁকা ছবি। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাহাড়ী নদী গ্রামের পথ দেখিয়ে দেয় যেন। পথে পথে পাথুরে ঝর্ণা, পাহাদের পাদদেশে সারিবদ্ধ লোকালয়, মাঝে মাঝে ধানক্ষেত, গরুর পাল আর পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঠান্ডা পরিষ্কার জলে গোসল করছে গ্রামবাসী। শরনকোট থেকে ট্রেকাররা পায়ে হেঁটে চলে যায় অন্নপূর্ণার কাছাকাছি। পাথুরে পথ নিয়ে যায় বরফশীতল হিমবাহের দিকে। এখানে সিঙ্গেল এভিয়েশন রয়েছে। রয়েছে লেকে ঘোরার জন্য বোট আর ট্রেকিং এর জন্য পাবেন স্থানীয় গাইড। শত শত বছর ধরে পর্যটন নির্ভর নেপালের অর্থনীতি আর এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে নানা সুবিধা চাইলে এভারেস্ট চূড়ায় যেতে পারেন ছোট্ট বিমানে। তবে এজন্য গাঁটের পয়সা ঝরাতে হবে। ট্যুরিস্টদের জন্য নেপাল অনেক নিরাপদ।
হিন্দু অধ্যুষিত নেপালে রয়েছে পুরনো দিনের রাজবাড়ী ও মন্দির। কাঠমান্ডু শহরের পুরনো গলিতেই আপনি পাবেন নানা স্বাদের ঘরবাড়ী দেখে ঐতিহাসিক অনুভূতি। শহরের উপকণ্ঠেই রয়েছে একাধিক মন্দির। কাঠের তৈরী নানা মূর্তি এসবের নির্মাণশৈলী অঙ্গভঙ্গি সবই অন্যরকম এক সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে।
শহর থেকে একটু দূরে ভক্তপুর নেপালের পুরনো সিটি রাজবাড়ী ও মন্দির। এইসব ঐতিহাসিক স্থান পর্যটকরা কখনোই মিস করেন না। এখানে গেলে মনে হবে ইতিহাস কথা বলছে ইঠ কাঠ পাথর ও আর শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে।
হিমালয় দেখার জন্য লোকেরা যায় নাগরকোটে। এখানে পাহাড়ের ঢালে ঢালে বেয়ে উঠেছে সরু পাকা রাস্তা। মনে হবে আকাশের কাছাকাছি কোথাও যাওয়া হচ্ছে। বাস যতক্ষণ চলে মনে হয় কেবল উপরেই যাচ্ছে। নাগরকোটে রয়েছে ছোট ছোট কটেজ আর রেস্টুরেন্ট। হয়তো পারিবারিকভাবে চালানো হচ্ছে। কোনোটাতে মা মেয়ে মিলে চালানো হচ্ছে। নেপালের মেয়েরা আপনাকে স্বাগত জানাবে তাদের দোকানে। ফুটপাত থেকে সর্বত্র দোকানীদের মধ্যে অর্ধেকই নারী। নাগরকোটে এভারেস্ট দেখা যায়। এখান থেকে এভারেস্ট দেখতে আসে লোকেরা। যারা এভারেস্ট অভিযানে যায় তাদের পথ আলাদা। নাগরকোটে সকালে গিয়ে বিকেলে ফিরে যায়। দূরত্ব বেশী নয় তবে পাহাড়ীপথ বলে একটু সময় লাগে বৈকি।
নেপালেও পকেটমাট ও মলমপার্টি আছে। গেলে সর্তর্ক থাকবেন। পথে পথে যেসব হাইওয়ে হোটেল আছে সেগুলোতে ফ্রাইড ফিস থাকে, থাকে নানারকম সব্জি ও ডাল খেতে ভালোই লাগে। রুটি ভাজিও মন্দ নয়। পাহাড়ী ‍উপত্যকাগুলোতে ছোট ছোট লোকালয় কখনো গ্রামের ভেতর অনেক দূরে দূরে ঘরবাড়ীগুলো। কেউ পটুয়া হলে মন চাইবে রঙ তুলি নিয়ে বসে যেতে। নেপালে নিরাপত্তার ব্যাপারে ভাবতে হবে না। নেপালিরা খুবই আন্তরিক।

নেপাল এমন একটি দেশ যেখানে আপনি একসাথে পাবেন আপনার ছুটি উপভোগের সবকিছু , এ যেন এক সব পাওয়ার দেশ। ইচ্ছে মত চুটিয়ে উপভোগ করতে পারবেন একান্তে নিভৃতে আপনার অবসর আপনার নিজের মতো করে। জুড়ানো সবুজের হাতছানি আপনাকে মুগ্ধ করবে প্রাচীন কোন হ্রদের ধারে কিংবা জলপ্রপাতের কলকল ধ্বনির সাথে । শরনকোটে পাহাড়ের উপর একটা মন্দির আছে সেখানে গিয়ে দেখি যে এক রাশিয়ান ভদ্রলোক পাহাড়ের মধ্যে এক কুড়েঘর বানিয়ে থাকছেন মাসের পর মাস। হয়তো নগরের কোলাহল ছেড়ে সবুজ প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার একভিন্ন প্রয়াস।
ঐতিহাসিক মন্দিরের পবিত্রতা ছুঁয়ে যাবে আপনাকে । মন্দির ,স্বচ্ছ হ্রদ , সারি সারি সবুজ ভ্যালি , বন্য প্রানী সংরক্ষণ কেন্দ্র , পাহাড় কিংবা তাদের রাজপ্রাসদ সমূহ সব কিছুতেই মুগ্ধতা এ যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো স্বর্গ।
ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে যাত্রা করছে ইউএস-বাংলা, বিমান বাংলাদেশ ও এয়ার ইন্ডিয়া।

Biman Bangladesh Airlines: Fare Start from- BDT 20,863
US Bangla Airlines fare Start from-20,352 BDT

For Nepal Tour+Air ticket please call: 0170 996 2797, 0187 404 2225, 0170 996 2795,

Published : অক্টোবর ২৫, ২০১৬ | 1741 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798