ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন

Published : অক্টোবর ২২, ২০১৬ | 1585 Views

ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন
জাহাঙ্গীর আলম শোভন
পর্ব: ১

আজ থেকে আট বছর আগে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান আসার সাথে সাথে মানুষ একে ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছে। সেটার প্রতিফলন পড়ছে সব কিছুতে। এমনিতে আমাদের দেশের বা সরকারের ব্যাপারে একটা প্রবণতার কথা শোনা যায় সেটা হলো নতুন কিছু অথবা প্রযুক্তিপন্য আমরা সহজে গ্রহণ করিনা যখন প্রয়োজন তখন গ্রহণ করি না। বরং অনেক দিন পুরনো হলে তবে সেটা আমরা চালু করি। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অন্তত এই বদনাম কিছুটা ঘুচেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান এর এই ক্ষেত্রে গুরুত্ব আছে। এই স্লোগান নিয়ে বর্তমান সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় আসার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আইসিটির কোনো বিষয় সামনে আসলে সেটা গ্রহণ করতে হয় এবং প্রয়োজনে সামনে না আসলে তাকে সামনে নিয়ে আসতে হয়। এই স্লোগান না থাকলে হয়তো এতটা হতো না। সারাবিশ্বের সাথে তাল মেলানোর সুবাদে কিছু কিছু বিষয় অবশ্যই চালু হতো কিন্তু বর্তমানে আইসিটি খাতে যতটা কাজ হচ্ছে ততটা হতো না। কেউ হয়তো বলবেন পৃথিবীর বহুদেশ বা আমাদের মতো দেশে অনেককিছুই হয়েছে যা আমাদের দেশে এখনো হয়নি। আমি আমাদের দেশের স্বাভাবিক যে প্রবণতা যেটা আমরা টেকনোলজি খুব দ্রুত গ্রহণ করতে পারি না (সরকারী পর্যায়ে) সেটা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে গেলে কিন্তু সাম্প্রতীক সময়ে প্রাপ্তির পরিমানই বেশী বলতে হবে। আবার এমন দুই একটা বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের দেশের মতো অনেক দেশে হয়নি কিন্তু বাংলাদেশে হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বিদ্যমান বাস্তবতা
সবকাজে সংশয় থাকে বা থাকতে পারে। সূতরাং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নেও তা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর এটাতো সত্যি যে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বাঁধা রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে উঠার জন্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে আবার এটাও ভুলে গেলে চলবেনা যে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বেশকিছু রিসোর্সও আমাদের আছে।
আমাদের বিদ্যুৎ সমস্যা আছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রয়েছে নদী, গ্যাস এবং বিদেশ থেকে কয়লা ও তেল আমদানীর সুবিধা। আমাদের দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে কিন্তু আমরা আমাদের জনসম্পদকে প্রশিক্ষিত করে সম্পদে রুপান্তর করতে পারি। আমাদের নেতিবাচক ইমেজ রয়েছে বিশ্ববাজারে সেটাকে কাজের মাধ্যমে ইতিবাচক করতে পারি।
এই পারাটা যে সম্ভব, সেই পথটা আমাদের দেখাচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ভালো করছে আমাদের যুবারা। ৭৫ হাজার তরুন নিজেরাই কারো কোনো সহযোগিতা ছাড়া আউটসোর্সিং থেকে আয় করার রাস্তা করে নিয়েছে। দেশের বাইরে আইটি ও সফট পন্য রফ্তানী করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান। কয়েকটি জায়গায় বিশ্বসেরার তকমাও আছে। যেমন মোবাইল ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং সফটওয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্ঠা জনাব সজিব ওয়াজেদ জয়কে ধন্যবাদ যে আইসিটিকে গুরুত্বদিয়ে সরকারের সাথে কাজ করার জন্য। এটা তার নিজের দক্ষতার জায়গা সে কারণে হোক অথবা আমাদের দেশে জমি কম মানুষ বেশী তাই প্রযুক্তি নির্ভর সেবা দিয়ে অগ্রসর হওয়ার উপলব্দির কারনে হোক।
ইতোমধ্যে সরকার এই বিষয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। একদিকে সরকারের প্রচারণা অন্যদিকে বিভিন্ন পদক্ষেপ, প্রাইভেট সেক্টরকে কাজ করার সুযোগ দেয়া, ইন্টারনেটের দাম কমানো, আইসিটি বেজড কোম্পানীগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপ, ইন্টারনেট এর আবিষ্কার সবকিছুই এ অগ্রগতিকে দারুনভাবে প্রভাবিত করেছে এটা বলাই যায়।
সরকার ধীরে ধীরে ই-গর্ভনেস এর দিকে যাচ্ছে। এই যাওয়াটা কি দ্রুত হওয়া উচিত না্ ধীরে হওয়া উচিত তা নিয়ে মতদ্বৈততা থাকতে পারে। আমি বলবো যদি আমাদের প্রয়োজনের কথা বলা হয় তাহলে কাজটা দ্রুতই করা উচিত আর যদি সক্ষমতার কথা বলা হয় তাহলে বলবো ধীরে আগানোই ভালো। প্রতিটি, সেবা, প্রযুক্তি বা এ সম্পর্কিত ইনফাস্ট্র্যাকটচার পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল যেমন দরকার তেমনি দরকার মজবুত ভিত্তি। আর মনে রাখতে হবে এটা কিন্তু রাতারাতি গড়ে উঠে না। তার উপর বাজেটের প্রশ্ন এবং সবচেয়ে বড়ো কথা হলো এসব সেবা যারা পরিচালনা করবে তাদের জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সাথে সাথে যারা সেবার ফল পাবে তাদের এই সম্পর্কিত পরিষ্কার ধারণাও তৈরী হওয়া দরকার। বলা বাহুল্য সেটা হুট করে হয়না। এ্কটা পক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। মনে হয় সরকার সেই পথেই অগ্রসর হচ্ছে।

Published : অক্টোবর ২২, ২০১৬ | 1585 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798