কক্সবাজার: বাকী অনেক কিছু করার

Published : অক্টোবর ১৭, ২০১৬ | 948 Views

বাংলাদেশ

কক্সবাজার: বাকী অনেক কিছু করার- পর্ব ২

জাহাঙ্গীর আলম শোভন।

বাংলাদেশের পর্যটন এবং সার্বিক উন্নয়নে সামাজিক পর্যটন হতে পারে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা।  যেহেতু কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন স্থান তাই আজ কক্সবাজারের উন্নয়ন বিষয়ক কিছু বিষয় আলোচনা করা যাক।

কক্সবাজারের কথা মনে পড়লেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে সমুদ্র উপকূল আর আছড়ে পড়া ঢেউ। এর বাইরেও যে কক্সবাজারের সৌন্দর্য আছে সেকথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। আছে পাহাড়ের সমারোহ, তার গায়ে ঢলেপড়া সবুজ বনানী, আছে একটু উচু নিচু বন বাদাড়, শত শত প্রজাতীর গাছ গাছলির মাঝে হাজারো প্রজাতীর প্রানীকূল সেখানে বেঁচে রয়েছে। নানা প্রতিকিুলতার মাঝে তারা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সংগ্রাম।
কক্সবাজার হলো চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কিঃমিঃ দক্ষিণে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কি.মি.। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহরের পাশ দিয়ে ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশান।

দেশ দেখা শিরোনামে গত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৬ থেকে ২৮ বা ২৯ মার্চ পর্ন্ত হেটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফে আমি যে পদযাত্রা সম্পন্ন করেছি। তাতে কক্সবাজারের অন্যরুপটাও খুব কাছ থেকে ঠান্ডা মাথায় দেখার সুযোগ হয়েছিলো আমার। ২৭ মার্চ শেষবেলায় টেকনাফে প্রবেশ করি। একেতো সেদিন রাতের সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হাঁটি তার উপর হিসেব মতো আর মাত্র একদিন পরেই লক্ষ্য ছুঁবো যদিও পরে সেটা দুই দিনে করতে হয়েছে। সাধারনত সাইথ বেঙ্গলে রাত করে হাটা হয়না। কারণ নিরাপত্তা একটা বড়ো ইস্যু। ঢাকা পার হওয়ার পর এরকম শুধু আরেকদিন হেটেছিলাম রাত ৯টা পর্যন্ত সেদিন সেদিন দাউদকান্দি থেকে চান্দিনা গিয়েছিলাম । তাও গিয়েছি শেষ বিকেলে কুমিল্লার সাদ্দাম হোসেন এসে সঙ্গ দিয়েছিলো বলে। সে অভিজ্ঞতা থেকেই মূলত এই লেখা।

বলছি টেকনাফের কথা । এখানে সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর সংখ্যা খুব অপ্রতুল। ফলে এখানে গড়ে উঠছে প্রচুর মাদ্রাসা এবং বেশীরভাগ কওমী মাদ্রাসা। দেশের উন্নয়ন এর জন্য কখনোই ধর্মীয়জ্ঞান বাঁধা নয়। কারণ আজকের ইউরোপ আমেরিকায় অক্সফোর্ড ক্যাম্ব্রিজ এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চার্চের অধীনেই পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু তার সাথে যুগোযযোগী আধুনিক ও জীবনমুখী শিক্ষা প্রয়োজন। তা না হলে শুধু হজুর তৈরী করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর কোনো একটা নিদিৃস্ট অঞ্চল পিছিয়ে থাকাও কাম ন্যয়। তাই এসব এলকায় প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে সরকারীভাবে বিভিনন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা দরকার।

এখানকার মানুষরাই তাদের এলাকা সম্পর্কে বেশ ভালো জানবে। নিজের জন্মস্থানের প্রতিও তাদের মায়া থাকবে। তাই এখানে যদি একটি ট্যূরিজম ইনস্টিটিউট খোলা যায় মনোরম পরিবেশে এখানে শিক্ষার্থীরা ট্যুরিজম ও হসপিটিালিটি শিখবে। তাতে সবাই উপকৃত হবো। দেশের অন্যান্য সাথান থেকেও এখানে এসে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। আর এখানকার ছেলে মেয়েরা গাইড হিসেবে তৈরী হতে পারবে।

সরকার সাবরাংকে নতুন ট্যুরিজম স্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এখানে বিভিন্ন সুযোগ বুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আর শাহপরীর দ্বীপও হতে পারে আলাদা একটি ভ্রমণ গন্তব্য। চারদিকের অবারিত সমুদ্রের জলরাশির মাঝখানে দ্বীপটি এক অন্যরকম এডভেঞ্চার দিতে পারে ভ্রমণ পিপাসু লোকদের। এখানে বিজিবির শক্ত পাহারা চৌকি আছে। এটা ইতিবাচক দিক। কিন্তু লবণ চাষীদের জন্য কোনো মিলনায়তন, মার্কেটপ্লেস, বা অন্যান্য সহায়ক কোনো কর্মসূচী নেই। আমরা জানি দেশের লবনের বিরাট অংশের চাহিদা মেটানো হয় কক্সবাজার থেকে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসি দীর্ঘদিন ধরে দাবী করে আসছে বেড়িবাঁধের। কারণ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিনিয়ত তাদের বসবাস। ঝুকির মধ্যে দেশের সবচে সুন্দর এই পর্যটন সমম্পদ।তাই আলাদা বরাদ্দ করে এই কাজটা করলে সেটা হবে সারা দেশের জন্য একটা পদক্ষেপ। কারণ এখানে কতজন লোক বাস করে সেটা বিবেচনা করলে শুধু চলবেনা যেতেহু এখানে সারাবিশ্ব থেকে মানুষ আসে। তাই এটা সারা বিশ্বের সম্পদ আর আমাদের গৌরব। এই গৌরবকে আমরা হারাতে চাইনা।

 

Published : অক্টোবর ১৭, ২০১৬ | 948 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798