• প্রচ্ছদ
  • /
  • ভ্রমণ
  • /
  • ফেনীর মুহুরী প্রজেক্ট: পর্যটন স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে

ফেনীর মুহুরী প্রজেক্ট: পর্যটন স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে

Published : অক্টোবর ১৫, ২০১৬ | 2148 Views

ফেনীর মুহুরী প্রজেক্ট: পর্যটন স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে

 

১৯৭৭-৭৮ অর্থ বছরে শুরু হয়ে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সেচ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ফেনী নদী, মুহুরী নদী এবংকালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহকে আড়ি বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে 40 ফোক্ট বিশিষ্ট একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরী করে ফেনী জেলার ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার কিয়দংশ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো ও আমন ফসলে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল মুহুরী সেচ প্রকল্প । সিডা, ইইসি, বিশ্বব্যাংকের অর্থ সহায়তায় জাপানের সিমুজু কোম্পানী 168 কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেচ প্রকল্প নির্মাণ করে । এর ফলে ২০,১৯৪ হেক্টর এলাকায় সেচ সুবিধা এবং ২৭,১২৫ হেক্টর এলাকা সম্পুরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে।মুহুরী সেচ প্রকল্পকে ঘিরে গত আড়াই দশকে গড়ে ওঠে বিনোদন ও পিকনিক স্পট । শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে ভ্রমণ পিপাসু লোক এবং পর্যটক বেড়াতে আসে । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মুহুরী রেগুলেটরের চারদিকে বাঁধ দিয়ে ঘেরা কৃত্রিম জলরাশি,বনায়ন,মাছের অভয়ারণ্য, পাখির কলকাকলি,বাঁধের দুপাশে নীচ থেকে পাথর দিয়ে বাঁধানো এবং উপরদিকে দুর্বা ঘাসের পরিপাটি বিছানা । মুহুরীর জলরাশিতে নৌভ্রমণের সময় খুব কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস এবং প্রায় ৫০ জাতের হাজার হাজার পাখির দেখা পাওয়া যায় ।

 

বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প

নদীতীরে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, সোনাগাজী, ফেনী

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নযন বোর্ড (পিডিবি) ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি ২২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দেশের প্রথম বায়ু শক্তি চালিত বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন করা হয় সোনাগাজী উপজেলাফেনী নদীর ওপর নির্মিত ফেনী রেগুলেটরের (মুহুরী সেচ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত) প্রায় ৫০০ গজ দূরে থাক খোয়াজের লামছি গ্রামে। প্রকল্প এলাকার পাশ দিয়ে ফেনী নদী বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। দক্ষিণে বিস্তীর্ন মাঠ এবং বন বিভাগের সবুজ বেষ্টনী। ২০০৪ সালে ভারতের নেভ্যুলা টেকনো সোল্যুশনস লিমিটেডের সাথে এ প্রকল্প নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব খাত থেকে এ প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

২০০৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পরীক্ষা মূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় এবং ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে অল্প কিছুদিন চলার পর নানা অজুহাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়।

কতদূর:   ফেনী   সদর হতে সোনাগাজী উপজেলা সদর পর্যন্ত দূরত্ব ২০কি.মি. এবং উপজেলা সদর হতে দশর্নীয় স্থান এর দূরত্ব ২০ কি.মি. অর্থাৎ ফেনী সদর হতে দর্শনীয় স্থানের দূরত্ব সর্বমোট ৪০কিমি.

কিভাবে যাওয়া যায় : ১)  ফেনী লালপোল হতে বাস যোগে (মিল্লাত পরিবহন, ফারাবি ট্রান্সপোর্ট,জয় পরিবহন, প্রতিশ্রুতি পরিবহন ইত্যাদি) ,  সোনাগাজী উপজেলা সদর পর্যন্ত অত:পর সোনাগাজী উপজেলা সদর হতে বাস যোগে বাদামতলী পর্যন্ত, অত:পর বাদামতলী হতে রিক্সা যোগে দর্শনীয় স্থানে পৌঁছা যায়। অথবা ২) ফেনী মহিপাল মোড় হতে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়

থাকতে চাইলে:

১) পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডাক বাংলো (দর্শনীয় স্থান সংলগ্ন)। ২) জেলা পরিষদ ডাক বাংলো (দর্শনীয় স্থান হতে ২০ কি.মি. দূরে উপজেলা সদরে অবস্থিত, সি,এন,জি অটো রিক্সা যোগে যাওয়া- আসা করা যায়)

৩) আবাসিক হোটেল – নাসির রেষ্টুরেন্ট এন্ড আবাসিক হোটেল, মোবাইল: ০১৮৩০১৬৭৬৯৬, (দর্শনীয় স্থান হতে ২০ কি.মি. দূরে উপজেলা সদরে অবস্থিত, সি,এন,জি অটো   রিক্সা যোগে যাওয়া-আসা করা যায় )

৪) অন্যরকম নিদ্রাযাপন: ফেনীতে একেবারে ইকোফ্রেন্ডলী রাতযাপন করতে হলে চলে যেতে পারেন শমসের গাজীর বাঁশের কেল্লায়। ছাগলনাইয়াতে অবস্থিত হলেও মহাড়াক থেকে মাত্র কয়েককিলোমিটারের দূরত্বে বাঁশ দিয়ে তৈরী এই রিসোর্টটি বেশ আধুনিক এবং আর্কষণীয়। আছে খাবার ও বারবিকিউ সহ নানা আয়োজন। চাইলে এখানে এক রাতের অতিথি হতেই পারেন।

৫) এছাড়া পাশ্ববর্তী বারইয়ার হাট এলাকায় রয়েছে প্রচুর আসাসিক হোটেল। এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রয়েছে জাপানী ডিজাইনের রিসোর্টি ভিটা ওয়াল্ড। বিলাসবহুল রাতযাপনের জন্য এখান্ওে আসতে পারেন।

 

Published : অক্টোবর ১৫, ২০১৬ | 2148 Views

  • img1

  • Helpline

    +880 1709962798