তোমার উদ্ভাবনে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ

Published : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ | 862 Views

শুরুর কথা

জনগণের দোরগোড়ায় ই-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায় একটি উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড গঠন করা হয়।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা ছাড়াও দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে সহজে, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে সরকারি এবং বেসরকারি সেবা সমূহ গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে সেবা প্রদানে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং তার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের আওতায় ‘সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড’ গঠন করা হয়। ২০১৩ সালের মার্চ মাস হতে এই ফান্ডের যাত্রা শুরু হয়।

ফান্ডের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোক ফান্ডের মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা করা, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর সফলতা নিশ্চিত করা এবং এর আওতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একটি উদ্ভাবনী সংস্কৃতি তৈরি এবং তা টেকসইকরণে সহায়তা করা। ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এনজিও, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ যে কেউ এই ফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে।

idea-bank-ui-elements-2015-12-03_main_banner_1

 

কিভাবে কাজ করি?

সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবকদের জন্য সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড বা সেবা উদ্ভাবন তহবিল উন্মুক্ত, তবে সুবিধাবঞ্চিতদের সুবিধা প্রাপ্তির বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে নিম্নোক্ত খাতসমূহ বিশেষভাবে অগ্রাধিকার পাবেঃ

  • সেবা প্রদান – ইলেকট্রনিক/মোবাইল এর মাধ্যমে সরকারি সেবা প্রদান যাতে করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশু, বৃদ্ধ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং প্রতিবন্ধিদের সেবা প্রদান/গ্রহণ সহজতর হয়।
  • সেবা বিকেন্দ্রীকরন – ইলেকট্রনিক/মোবাইল সেবা যা বিদ্যমান ডিজিটাল সেন্টার, জাতীয় ই-সেবা সিস্টেম, জাতীয় পোর্টাল, নগর ই-সেবা কেন্দ্র, ইত্যাদির উন্নয়নে এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
  • নারীর ক্ষমতায়ন – ইলেকট্রনিক/মোবাইল সেবা যা নারীপুরুষের বৈষম্যকে হ্রাস করবে এবং নারী অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
  • পল্লী উন্নয়ন – এরূপ উদ্ভাবন যা পল্লী অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাজে আসবে।
  • সবুজ উদ্যোগ – এরূপ উদ্ভাবন যা ই/এম সেবা প্রদানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে কাজে লাগবে।
  • স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তি – সেবা প্রদানের জন্য স্বল্পমূল্যের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি উদ্ভাবন যা ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে আনে এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে এ প্রযুক্তির সুফল স্বল্পমূল্যে পৌঁছে দেয়া যাবে।
  • তথ্য অধিকার – এরূপ সেবা যা তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
  • বাংলা ভাষা সহায়ক অ্যাপ্লিকেশান – এরূপ ওয়েব-ভিত্তিক এবং মোবাইলে-সক্রিয় অ্যাপ্লিকেশান যা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা প্রদানে সাহায্য করবে এবং আমাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে (যেমন বাংলা লেখা-থেকে-কথা, বাংলা কী-ওয়ার্ড এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ব্যবহার, ইত্যাদি)।
  • সেবা প্রদানে এরূপ উদ্ভাবন যা তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগায় না অথচ সুবিধাবঞ্চিতদের সুবিধা প্রাপ্তিকে সহজ করে তুলবে।
  • সেবা প্রদানে এরূপ উদ্ভাবন যা সময়, খরচ ও যাতায়াত সংখ্যা কমাবে না, কিন্তু সেবার মান উন্নীত করবে। যেহেতু সেবার মানের মানদণ্ড প্রাসঙ্গিকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে এবং এটি অনেক সময়ই পরিষ্কার ভাবে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন, কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্যানেল ক্ষেত্র বিশেষে আবেদন যাচাইকরণের ভিন্ন ভিন্ন মাপকাঠি নির্ধারণ করতে পারে।

৪টি মানদন্ডের ভিত্তিতে সে সকল উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড প্রদানের জন্য বিবেচিত করা হয় যেগুলোর মাধ্যমে সেবা পেতে:

ক) সময় তুলনামূলকভাবে কম লাগবে ( ভ্রমন, অপেক্ষাকালীন সময় এবং সম্পূর্ণ লেনদেন করার সময়সহ)

খ) জনগনের খরচ কমে যাবে (ফি, ভ্রমন খরচ ইত্যাদি ছাড়াও অতিরিক্ত অন্যান্য খরচ)

গ) ভ্রমনের সংখ্যা বা পরিমানও কমে যাবে।  এবং সর্বপরি

ঘ) সেবার মান বৃদ্ধি হবে।

idea-bank-ui-elements-2015-12-03_main_banner_2

অনলাইনে একটি সিস্টেমের মাধ্যমে উদ্ভাবনী প্রকল্প ধারণাগুলো সংগ্রহ করে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পগুলোকে ফান্ড দেয়া হয়। ফান্ড প্রদানের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লক্ষ টাকা এবং বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পগুলো সর্বোচ্চ ১২ মাস সময় পেয়ে থাকে। প্রকল্পগুলো যাতে সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে সেজন্য সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড মনিটরিং টিম বিজয়ী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নকারী টিমকে সর্বাত্মক সহয়তা করে থাকে। ফান্ডের মাধ্যমে উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পরবর্তীতে তা সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বড় পরিসরে উদ্ভাবনী উদ্যোগটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সাফল্য গাথা

সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের মাধ্যম ইতিপূর্বে ৬টি পর্বে (Round) ৫৬ টি প্রকল্পকে ফান্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ প্রায় শেষের দিকে। এই বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “বই মেলা ২০১৫”-তে “বাংলা ওসিআর” প্রকল্পটি  উদ্ভোধন করেন।

 

ধারণা/কল্পনা করা বাস্তাবয়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি – মূল্যায়ন – আধুনিকায়ন – অন্যান্য ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া

 

“ সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের শুরুতে উদ্ভাবনী ধারণা বা কল্পনা করে, বাস্তাবয়নের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে, মূল্যায়ন করে এবং সর্বপরি আধুনিকায়নের মাধ্যমে অন্যান্য জায়গায় উদ্ভাবন ছড়িয়ে দেয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ভাবনী সেবা জনগনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

উদ্ভাবনী ধারণা বা কল্পনা করা:

এই ধাপে সেবার মান উন্নয়নে সেবা প্রদানের সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে এবং এর সম্ভাব্য সমাধানগুলো খোজেঁ বের করা হয়।

বাস্তবায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি:

এই অংশে আপাত: মনে হওয়া সবচেয়ে ভালো উদ্যোগগুলোর প্রটোটাইপ হিসেবে বাস্তাবয়িত করা হয় এবং ফলাফল যাই হোক না কেন লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়।

মূল্যায়ন ধাপ:

এই ধাপে প্রোটোটাইপ করা উদ্যোগটির কার্যকারিতা এবং সামর্থ্য মূল্যায়ন করা হয়।

আধুনিকায়ন:

এই ধাপে উদ্যোগটি ছড়িয়ে দেয়া এবং এর কলেবর বাড়ানোর মাধ্যমে যেটা যাথাযথ হয় সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা হয়।

সেবা পুনরায় অন্যকোন ক্ষেত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্যোগটি ছড়িয়ে দেয়া:

উদ্যোগটি ছড়িয়ে দেয়া এবং এর কলেবর বাড়ানোর মাধ্যেমে উদ্যোগটি অন্যকোন ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগি করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়।

 

http://ideabank.eservice.gov.bd/home

Published : সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৬ | 862 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798