বিশ্বজনীন অভিগম্যতা প্রতিষ্ঠায় – সকলের জন্য পর্যটন।

Published : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ | 1364 Views

বিশ্ব পর্যটন দিবস – ২১০৬

বিশ্ব পর্যটন দিবস – ২০১৬

বিশ্বজনীন অভিগম্যতা প্রতিষ্ঠায় – সকলের জন্য পর্যটন।

শেখ মেহদি হাসান

বিশ্ব পর্যটন দিবস – ২১০৬

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন তাঁর অফিসিয়াল বার্তায় বলেছেন “প্রত্যেকের অবকাশ এবং পর্যটন সেবাসমূহ লাভ করার সমান অধিকার রয়েছে। যদিও বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছেন, যার মধ্যে শিশু, বয়ষ্ক এবং যাদের কোন বিশেষ সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য, কার্যকর যানবাহন এবং সরকারি সেবাসমূহ, এবং একটি সহজে নির্ণয়যোগ্য পরিবেশগত অবকাঠামোর মতো ভ্রমণের মৌলিক বিষয়গুলো লাভ করতে এখনো বাধার সম্মুখীন হন। এমনক আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও ঐসকল দৃষ্টি, শ্রবণ, চলাচলে অক্ষম মানুষেরা অনেক পর্যটন কেন্দ্রে পেছনে ফেলে রাখা হয়।”

অন্যদিকে জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা WTO এর মহাসচিব তালেব রিফাই বলেছেন, “ এই গ্রহটি যে সকল অবিশ্বাস্য বৈচিত্রের ডালা সাজিয়ে রেখেছে, সমগ্র বিশ্বের নাগরিকদের সেই সবের অভিজ্ঞতা লাভের অধিকার আছে।” ফলে এটা এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে বিশ্বের দেশসমূহ, সব ধরনের পর্যটন কেন্দ্র এবং শিল্প – পরিবেশগত অবকাঠামো, যানবাহন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সেবাসমূহে এবং  তথ্য ও যোগাযোগের চ্যানেলগুলোতে প্রবেশযোগ্যতা কে প্রতিষ্ঠিত করবে।”

এ দুটি বৈশ্বিক সংস্থার প্রধানদ্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করেছেন এবং বিশ্ব পর্যটন সংস্থা সঠিকভাবেই তাদের এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের শ্লোগান নির্ধারন করছেন। কিন্তু পর্যটন কেন্দ্র, এবং শিল্প ও সেবায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এ গম্যতা বা প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান কি? বর্তমান সরকার ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষনা করেছেন। সে প্রেক্ষাপটে পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ, সব ধরনের জনগোষ্ঠীর নিকট পর্যটন শিল্পকে সহজলভ্য ও সহজগম্য করে তোলা এবং একে জাতিয় উন্নয়নের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের ব্যপক প্রস্তুতি নেয়া অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস – ২১০৬

পর্যটন শিল্প সম্প্রসারনে এবং গম্যতা নির্ধারনে বাংলাদেশে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্য হলো যোগাযোগ। দূরবর্তী এবং দুর্গম পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত এবং নাজুক। ক্ষেত্রবিশেষে সুস্থ-সমর্থ পর্যটকদের পক্ষে এসব স্থানে যাওয়া কঠিন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন অঞ্চল। কিন্তু এ সকল অঞ্চলে সাধারণ মানুষের গম্যতা সহজ নয়! প্রথমত: যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও অসংখ্য পর্যটন স্থান অগম্য রয়ে গেছে। এই যোগাযোগের চিত্রকে পর্যটন বান্ধব পর্যায়ে নেওয়ার একটু সুস্পষ্ট কর্মসূচির প্রয়োজনীয় জোরালে ভাবে অনুভূত হচ্ছে।

পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে পার্বত্য চুক্তির আলোকে সরকার সামরিক উপস্থিতি সীমিত করেছে। তবে পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রতিক কালে সামরিক বাহিনী পর্যটন ব্যবসার সম্প্রসারণ করছে বলে প্রতীয়মান হয়। এক্ষেত্রে ঐসব এলাকার আদিবাসীদের অধিকার লংঘিত হচ্ছে কিনা সেটা লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত জরুরী। এছাড়াও পার্বত্য এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে এখানে পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রথমত একটি জরিপ এবং দ্বিতীয়ত একটি নীতিমালা প্রয়োজন।আমরা সমতলের অধিবাসীরা পাহাড়ে পর্যটন করতে চাই। শুধু তাই নয়, আমরা তাদের নিজস্ব ধরনের জীবন পদ্ধতিতে ঢুকে পড়ে পাহাড়ে বসতি ও স্থাপন করে চলেছি। কিন্তু পাহাড়িদের জন্য সমতলে অভিগম্যতা কি আমরা ততটা সহজ বা অবাধ করেছি কি?

কোন পর্যটন কেন্দ্র বা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট দর্শনীয় স্থানে অবাধ অভিগম্যতা হলো এবারের পর্যটন দিবসের শ্লোগান। তবে আমাদের দেশের মানুষের স্বভাব হলো রাস্তাঘাটে ক্রমাগত নোংরা নিক্ষেপ করা। বাসা-বাড়ি থেকে নয় শুধু চলতে চলতে ও মানুষ রাস্তা-ঘাটে বিভিন্ন খাবার বা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ নিক্ষেপ করে! তাই প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান সমূহে পর্যটন বিষয়ে বর্তমান নীতিমালাকে কঠোরভাবে প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই। কারণ গত বেশ কিছুদিন যাবৎ বাংলাদেশের বিভিন্ন দূর্গম স্থানে প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান আবিস্কৃত হচ্ছে আর বিশেষতঃ তরুণরা সেখানে পর্যটন করছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই এর পাহাড়ে চারটি সাম্প্রতিক সময়ে ৪ টি ঝর্না আবিস্কারের কথা জানা যায়, যেগুলোর কথা স্থানীয়রাও জানাতোনা। এসকল স্থানে তরুণরা Adventure Tourism, Extreme Tracking ও করছে। ফলে পর্যটনে অভিগম্যতার পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব পর্যটনের নীতিকে অত্যন্ত জোরালো ভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

WHO এবং World Bank এর মতে বাংলাদেশে ৩৪ লক্ষ শিশু এবং ১ কোটি ২০ লক্ষ বয়ষ্ক মানুষের চলাচলে শারিরীক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের পর্যটন শিল্প কি এইসকল মানুষকে পর্যটন সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত? যদি আমাদের প্রস্তুতি অপার্যপ্ত হয়, তবে এখনই সময় প্রতিবন্ধীত্বের শিকার মানুষের পাশে দাঁড়াবার। কারণ দৃষ্টি, শ্রবণ, চলাচলে অক্ষম মানুষেরা পর্যটনের আনন্দ হতে বঞ্চিত হতে পারেন না। জাতিসংঘের মহাসচিবের মতো আমরাও বিশ্বাস করি এই সুবিশাল মহাবিশ্বে একটি মাত্র সবুজ গ্রহ রয়েছে, সেটি আমাদের এই পৃথিবী। তাই এই পৃথিবীর রূপ, রস, গন্ধ অনুভব করার অধিকার সকল মানুষের সমান ভাবে রয়েছে। সেটাই হলো বিশ্বজনীন বা বিশ্বব্যাপী অভিগম্যতা।

 

** বাংলা লোগোটি তৈরী করেছেন লেখক।

শেখ মেহেদী হাসান

লেখক পরিচিতি:

লেখক : জনাব শেখ মেহদি হাসান, উর্ধতন নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। ১৬ বছর ধরে কর্মজীবনে এবং অনলাইনে পর্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করছেন।

 

 

 

Published : সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৬ | 1364 Views

  • img1

  • সেপ্টেম্বর ২০১৬
    সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
    « আগষ্ট   অক্টোবর »
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • Helpline

    +880 1709962798